বিশ্বের সবচেয়ে কম ভ্রমণ করা দেশগুলোর অন্যতম উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মৌরিতানিয়া। দেশটির প্রায় নব্বই শতাংশ ভূখণ্ড সাহারা মরুভূমির অন্তর্ভুক্ত। পর্যটন অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে প্রতিবছর এখানে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা খুবই কম। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা না থাকায় দেশটি ধীরে ধীরে নতুন করে আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে উঠছে।
মৌরিতানিয়ার উপকূলীয় শহর নুয়াধিবু দেশের অন্যতম প্রধান মৎস্যবন্দর। সাগরের বিশেষ স্রোতের কারণে এখানে বিপুল পরিমাণ মাছের সমাবেশ ঘটে। এত বেশি মাছ ধরার নৌকা একসঙ্গে জড়ো হয় যে সেগুলোর অবস্থান মহাকাশ থেকেও দেখা যায় বলে জানা যায়।
রাজধানী নুয়াকশোতে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষের বসবাস। আধুনিক সরকারি ভবনের পাশাপাশি শহরের অনেক সড়ক এখনো বালুতে ঢাকা, যা রাজধানীকে মরুভূমির মাঝখানে গড়ে ওঠা এক ভিন্ন রূপ দিয়েছে।
দেশটিতে প্রায় বিশ লাখ উট রয়েছে। পরিবহন, দুধ ও মাংস উৎপাদনসহ নানা কাজে উটের ব্যবহার এখনো গুরুত্বপূর্ণ। রাজধানীর কাছেই আফ্রিকার অন্যতম বৃহৎ উটের হাট বসে, যেখানে শত শত উট কেনাবেচা হয়।
মরুভূমির ভেতর দিয়ে দীর্ঘ সড়কপথ ধরে পৌঁছানো যায় ঐতিহাসিক শহর ওয়ালাতা ও শিঙ্গেত্তিতে। একসময় সাহারা পেরিয়ে চলা বাণিজ্য কাফেলার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল এই শহরগুলো। বর্তমানে এগুলো বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা পেয়েছে।
ওয়ালাতা তার লাল মাটির স্থাপত্য ও ঐতিহ্যবাহী নকশার জন্য পরিচিত। অন্যদিকে শিঙ্গেত্তি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইসলামি জ্ঞানচর্চার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানকার প্রাচীন গ্রন্থাগারগুলোতে জ্যোতির্বিজ্ঞান, চিকিৎসা, গণিত, কবিতা ও ধর্মীয় বিষয়ে শত শত বছরের পুরোনো পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত রয়েছে।
দেশটির মরুভূমির ভেতরে ছড়িয়ে থাকা মরূদ্যানগুলো ভ্রমণকারীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে। খেজুরগাছঘেরা এসব সবুজ অঞ্চল শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মরুভূমি অতিক্রমকারী পথিকদের আশ্রয় ও বিশ্রামের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতিহাস, মরুভূমির প্রকৃতি, প্রাচীন নগরী এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কারণে মৌরিতানিয়া ভবিষ্যতে সাহসী ও ব্যতিক্রমধর্মী ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।
















