উগান্ডার উত্তরের একটি অঞ্চলে শিয়া গাছ রক্ষায় অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন এক নারী পরিবেশকর্মী। একসময় ফেলে দেওয়া শিয়া ফলের খোসা এখন পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। এতে যেমন বন উজাড় কমানোর চেষ্টা চলছে, তেমনি স্থানীয় নারীদের জন্য তৈরি হচ্ছে নতুন আয়ের সুযোগ।
শৈশবের প্রিয় শিয়া গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে জানতে পেরে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন লুসি এভারলিন আতিম। দীর্ঘদিন প্রতিবেশী দেশে কাজ করার পর নিজ এলাকায় ফিরে তিনি দেখেন, জ্বালানির জন্য কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে অসংখ্য শিয়া গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এরপরই তিনি বিকল্প জ্বালানির পথ খুঁজতে শুরু করেন।
উগান্ডায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বনভূমি উজাড় হচ্ছে। রান্নার জ্বালানি হিসেবে অধিকাংশ পরিবার এখনও কাঠকয়লার ওপর নির্ভরশীল। ফলে শিয়া গাছসহ বিভিন্ন দেশীয় বৃক্ষ দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। গবেষকদের মতে, গত এক দশকে উত্তরাঞ্চলে পরিণত শিয়া গাছের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
দক্ষিণ সুদানে কাজ করার সময় লুসি দেখতে পান, শিয়া ফলের খোসা দিয়ে জ্বালানির বল তৈরি করা হচ্ছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি দেশে ফিরে একটি সামাজিক উদ্যোগ গড়ে তোলেন। বর্তমানে এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিয়া ফলের খোসা সংগ্রহ করে জ্বালানির বল এবং শিয়া মাখন উৎপাদন করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগে কয়েকজন কর্মী সরাসরি কাজ করছেন এবং সঞ্চয়ভিত্তিক বিভিন্ন নারী দলের মাধ্যমে এক হাজারেরও বেশি নারী যুক্ত হয়েছেন। তারা শিয়া ফলের খোসা সংগ্রহ, জ্বালানি তৈরি এবং শিয়া মাখন উৎপাদনের মাধ্যমে আয় করছেন।
একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে নারীদের শেখানো হচ্ছে কীভাবে শুকনো খোসা গুঁড়া করে মাটি ও কাসাভার মিশ্রণে জ্বালানির বল তৈরি করতে হয়। পরে সেগুলো রোদে শুকিয়ে রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয়।
স্থানীয় নারী ক্যাথরিন আকেলো জানান, আগে শিয়া ফলের খোসা ফেলে দেওয়া হতো। এখন সেই খোসা থেকেই পরিবারের রান্নার জ্বালানি তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে দলগতভাবে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে সঞ্চয়ও করা যাচ্ছে, যা জরুরি সময়ে পরিবারের কাজে লাগছে।
তবে শিয়া ফলের মৌসুমভিত্তিক উৎপাদনের কারণে সারা বছর চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে আরও বেশি শিয়া মাখন উৎপাদনের পাশাপাশি জ্বালানির বল তৈরিও বাড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, শিয়া ফলের খোসা ব্যবহার করে জ্বালানি তৈরি করলে কাঠকয়লার বিকল্প সৃষ্টি হবে এবং বন উজাড়ও কমবে। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করলে এসব জ্বালানি আরও কম ধোঁয়ায় ও বেশি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।
জ্বালানি উৎপাদনের পাশাপাশি বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পরিবেশবিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা এবং গাছের চারা বিতরণের কাজও চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় উদ্যোগগুলোকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হলে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
লুসি এভারলিন আতিমের বিশ্বাস, শিয়া ফলের বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করা গেলে একদিকে যেমন গাছ কাটা কমবে, অন্যদিকে নারীদের জন্য টেকসই জীবিকার নতুন পথও তৈরি হবে।
















