দারুণ নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আরলিংটনের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখে।
ম্যাচের ২৪তম মিনিটে লামিনে ইয়ামালের ওপর লুকা দিনের ফাউলের পর পেনাল্টি পায় স্পেন। স্পটকিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। এটি ছিল এবারের বিশ্বকাপে তাঁর পঞ্চম গোল।
প্রথমার্ধে গোল হজমের পাশাপাশি আরেকটি বড় ধাক্কা খায় ফ্রান্স। ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন সেন্টার-ব্যাক উইলিয়াম সালিবা। বিরতির আগে ফ্রান্স গোলমুখে কোনো কার্যকর আক্রমণই গড়তে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণভাগে পরিবর্তন এনে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশঁ। তবে ৫৮তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্পেন। দানি ওলমোর সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু পাস আদান-প্রদানের পর পেদ্রো পোরো দুর্দান্ত ফিনিশে বল জালে পাঠান।
এরপর কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসেকে নিয়ে গড়া শক্তিশালী ফরাসি আক্রমণভাগ বারবার চেষ্টা করলেও স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। পুরো ম্যাচে স্পেন প্রতিপক্ষকে খুব কম সুযোগ দেয় এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জয় নিশ্চিত করে।
এই জয়ের ফলে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন ফাইনালে উঠল, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড অথবা আর্জেন্টিনা। এবারের টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি গোল হজম করেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
অন্যদিকে, টানা দুই বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা ফ্রান্সের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল সেমিফাইনালেই। এখন তাদের সামনে রয়েছে শুধু তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। দীর্ঘ ১৪ বছরের দায়িত্ব শেষে টুর্নামেন্ট শেষে কোচের পদ ছাড়বেন দিদিয়ের দেশঁ।
ম্যাচ শেষে গোলদাতা পেদ্রো পোরো বলেন, এটি তাঁর জন্য স্বপ্নপূরণ। তিনি জানান, দলের সবাই অসাধারণ খেলেছে এবং বলের দখল ধরে রেখে প্রতিপক্ষের শক্তিকে নিষ্ক্রিয় করাই ছিল তাদের মূল পরিকল্পনা।
















