যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দুই নেতা অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার, তেল উৎপাদন বৃদ্ধি এবং একাধিক নতুন চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে ট্রাম্প আল-জাইদিকে “অসাধারণ নেতা” উল্লেখ করে বলেন, ইরাকের বিপুল তেলসম্পদকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে বহু চুক্তি হবে। তাঁর ভাষায়, এসব উদ্যোগ উভয় দেশের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং ইরাকের তেল উৎপাদন আরও বাড়াবে।
অন্যদিকে আল-জাইদি বলেন, এই সফর কেবল কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক সম্পর্কের নতুন অর্থনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা। তাঁর দাবি, দুই দেশের সম্পর্ক এখন সামরিক সহযোগিতা থেকে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের দিকে এগোচ্ছে।
বৈঠকে উভয় নেতা জানান, বর্তমানে ইরাকে অবস্থানরত দুই হাজারের কম মার্কিন সেনা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশটি ত্যাগ করবে। একই সময়ের মধ্যে ইরাকে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন আল-জাইদি। তবে কীভাবে এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
ইরাক দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রভাবের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করে আসছে। দেশটিতে মার্কিন সেনা উপস্থিতি এবং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। আল-জাইদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে ইরান-সমর্থিত ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ জোট সফরের সম্ভাব্য ফলাফল প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেয়।
বৈঠকে তেল রপ্তানি নিয়েও আলোচনা হয়। ইরাকের প্রায় ৯০ শতাংশ জ্বালানি রপ্তানি হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে হওয়ায় সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনায় দেশটির অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় আল-জাইদি ওপেকের কাছে ইরাকের জন্য অধিক উৎপাদন কোটার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, আইএসবিরোধী যুদ্ধে ইরাকের ৪০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে। এখনো বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে। পুনর্গঠন ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য দেশটির বেশি তেল উৎপাদনের সুযোগ প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
















