যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে তেলের দাম এক মাসের সর্বোচ্চ, হরমুজ প্রণালি নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা তৃতীয় দিনের সামরিক সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম মঙ্গলবার প্রায় দুই শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় পঁচাশি ডলারে পৌঁছায়। আগের দিনের শক্তিশালী ঊর্ধ্বগতির ধারাবাহিকতায় এটি গত এক মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌযান লক্ষ্য করে হামলার সক্ষমতা দুর্বল করতে নতুন করে অভিযান চালানো হয়েছে। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক ও জ্বালানি-সম্পর্কিত লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় অবরোধ আরোপ এবং হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে যাতায়াত ফি আদায়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক উত্তেজনা দ্রুত প্রশমিত না হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। তাদের আশঙ্কা, সরবরাহে বাস্তব সংকট দেখা দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ব্যারেলপ্রতি একশ ডলারের কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি রুটে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের সামরিক সহায়তায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন অব্যাহত রয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
















