ইরাক যুদ্ধে তিন দফা দায়িত্ব পালন করা যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য বেনিতো মিরান্দা হার্নান্দেজ এখন বহিষ্কারের ঝুঁকিতে রয়েছেন। অভিবাসী হিসেবে শিশুকালে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা হার্নান্দেজের নাগরিকত্ব পাওয়ার অন্যতম ভিত্তি ছিল তাঁর সামরিক সেবা। কিন্তু বর্তমানে তিনি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছেন।
সম্প্রতি মাদক-সংক্রান্ত একটি মামলায় কারাদণ্ড শেষ করে মুক্তি পাওয়ার পর কারাগারের বাইরে থেকেই তাঁকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। পরে তাঁকে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি অভিবাসন আটককেন্দ্রে নেওয়া হয়, যেখানে তিনি বহিষ্কারের মামলার মুখোমুখি রয়েছেন।
অভিবাসী অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করা বহু অভিবাসী নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি পেলেও বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা ও আইনি কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে অপরাধমূলক মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর তাদের অনেকেই বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়ছেন।
অধিকারকর্মীদের ভাষ্য, সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালন শেষে অনেক সদস্য মানসিক চাপ ও সামাজিক জীবনে ফিরে আসার জটিলতার মুখোমুখি হন। এসব সমস্যার যথাযথ সমাধান না হওয়ায় অনেকে আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েন এবং পরে অভিবাসন ব্যবস্থার আওতায় আটক হন।
বিভিন্ন সংগঠনের দাবি, চলতি বছরে অভিবাসী সাবেক সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে বহিষ্কার কার্যক্রমের সংখ্যা বেড়েছে। তবে এমন ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান সংরক্ষণ না করায় প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন।
এদিকে কংগ্রেসে অভিবাসী সাবেক সেনাসদস্যদের সুরক্ষা দিতে একাধিক প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। অধিকারকর্মীদের আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করা অভিবাসীদের আইনি সুরক্ষা আরও জোরদার হবে।
















