দীর্ঘদিনের সংঘাত, কম বেতন, অনিয়মিত বেতন পরিশোধ এবং অনিরাপদ কর্মপরিবেশের কারণে ইয়েমেনের বিপুলসংখ্যক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। এর ফলে দেশটির স্বাস্থ্যখাত ভয়াবহ জনবল সংকটে পড়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন লাখো মানুষ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের বহু জেলায় কোনো চিকিৎসকই নেই। দীর্ঘ সংঘাতের কারণে অর্ধেকেরও বেশি স্বাস্থ্যকেন্দ্র কার্যকরভাবে সেবা দিতে পারছে না। ফলে সাধারণ মানুষকে সামান্য চিকিৎসার জন্যও দূরবর্তী শহরে যেতে হচ্ছে, যা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়।
স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কম আয়, অনিয়মিত বেতন, চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট, অচল যন্ত্রপাতি এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে দক্ষ চিকিৎসকেরা দেশে থাকতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এতে অবশিষ্ট চিকিৎসকদের ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনে প্রতি এক হাজার মানুষের বিপরীতে চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র শূন্য দশমিক এক, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় অনেক কম। এর ফলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
জনবল সংকট মোকাবিলায় ইয়েমেনের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল সিরিয়াসহ অন্যান্য দেশ থেকে চিকিৎসক নিয়োগ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এটি সাময়িকভাবে সংকট কিছুটা লাঘব করলেও দীর্ঘমেয়াদে দেশের নিজস্ব স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার বিকল্প নয়।
এদিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে বহু রোগীর শারীরিক অবস্থা ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। অনেকে অর্থাভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা নিতে পারছেন না, আবার কেউ কেউ প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার বা চিকিৎসা বিলের ব্যয় বহন করতে না পেরে গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন।
















