যুক্তরাষ্ট্রের জন্মের আড়াইশ বছর পূর্তির প্রাক্কালে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক অধিকার বহাল রাখার রায় দিলেও, কে প্রকৃত অর্থে একজন আমেরিকান হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন—সে বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি। অভিবাসন, নাগরিকত্ব ও সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক রায়ে আদালত জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী। এ রায়কে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তনের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট বার্তা।
অন্যদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা আদালতের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাদের দাবি, বর্তমান অভিবাসন নীতি দেশের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বিভিন্ন সময় চীনা বংশোদ্ভূত, কৃষ্ণাঙ্গ ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নাগরিকত্ব নিয়েও আইনি ও রাজনৈতিক বিরোধ দেখা গেছে। পরবর্তী সময়ে সংবিধান সংশোধন ও নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তাদের অধিকার স্বীকৃতি পেলেও সেই সংগ্রাম দীর্ঘদিন ধরে চলেছে।
এদিকে একই মেয়াদে আদালতের আরও কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। অস্থায়ী সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় থাকা বিভিন্ন দেশের মানুষের অবস্থান, আশ্রয়প্রার্থীদের প্রবেশাধিকার এবং অভিবাসনসংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তকে তারা উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস মূলত নাগরিক অধিকার, সমতা ও অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে ধারাবাহিক বিতর্কের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠেছে। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল থাকলেও কে এই রাষ্ট্রের পূর্ণ স্বীকৃত নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবেন, সেই প্রশ্ন এখনো দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
















