গাজায় নতুন করে ইহুদি বসতি স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচের বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে নতুন বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে।
সম্প্রতি স্মোত্রিচ দাবি করেন, উত্তর গাজায় তিনটি নতুন বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কেবল প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন প্রয়োজন। পরদিন এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার না করে বলেন, তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চান না।
আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন অবৈধ। সমালোচকদের মতে, গাজায় নতুন বসতি স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা আন্তর্জাতিক আইন ও ফিলিস্তিনিদের অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজা নগরীর উত্তরাংশে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর সেখানকার জনবসতি প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা বলয় তৈরির অংশ হিসেবে নতুন বসতি স্থাপনের চিন্তা করছে ইসরায়েলের ডানপন্থী মহল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, সামনে জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ডানপন্থী ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখার লক্ষ্যেও এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন জোটের কয়েকজন নেতার রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করতেই বসতি স্থাপনের বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ সতর্ক করে বলেছেন, গাজায় নতুন বসতি স্থাপনের যে কোনো উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে। তবে অতীতে বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হলেও কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ সীমিত ছিল বলেও তারা উল্লেখ করেছেন।
















