ত্বক ফর্সাকারী প্রসাধনীতে পারদের (মারকারি) ব্যবহার বন্ধে ফিলিপাইনের প্রসাধনী শিল্পের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠন ইকোওয়েস্ট কোয়ালিশন। সংগঠনটি বলছে, প্রসাধনীতে পারদের ব্যবহার জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে এবং এটি বন্ধে শিল্প, সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
ফিলিপাইনের চেম্বার অব কসমেটিকস ইন্ডাস্ট্রি (সিসিআইপি) সম্প্রতি ‘ব্রেকিং দ্য সাইকেল: এন্ডিং মার্কারি ইউজ ইন স্কিন লাইটেনিং প্রোডাক্টস’ শীর্ষক এক ফোরামের আয়োজন করে। এতে প্রায় ১৫০ জন অংশগ্রহণকারী পারদমুক্ত প্রসাধনী নিশ্চিত করা, ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন।
বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রসাধনীতে পারদের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। ত্বকের মাধ্যমে শোষিত হওয়া বা বাষ্পের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করা পারদ কিডনি ও লিভারের ক্ষতি, স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতা এবং শিশুদের বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া নিবন্ধনবিহীন ও নকল প্রসাধনীতেও পারদের উপস্থিতির ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়।
ফিলিপাইনের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) জানিয়েছে, পারদযুক্ত ত্বক ফর্সাকারী প্রসাধনীর উৎপাদন, আমদানি, বিক্রি ও ব্যবহার কমাতে সরকার শিগগিরই একটি সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। এর লক্ষ্য হবে সরবরাহ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ জোরদার, আইন প্রয়োগ বৃদ্ধি এবং ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
ইকোওয়েস্ট কোয়ালিশন জানায়, এক্স-রে ফ্লুরোসেন্স (এক্সআরএফ) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা ইতোমধ্যে বহু প্রসাধনীতে বিষাক্ত পারদের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে। এর ভিত্তিতে ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডে অন্তত ১২৫টি পারদযুক্ত প্রসাধনী বাজার থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
















