ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালা দ্রুত বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রবীণদের জন্য পৃথক একটি সরকারি বিভাগ গঠন করেছে। রাজ্য সরকার বলছে, কর্মসংস্থানের জন্য সন্তানদের দেশ-বিদেশে চলে যাওয়ার ফলে একা বসবাসকারী প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য হলো তাদের নিজ নিজ বাড়ি ও সমাজে থেকেই নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা।
কেরালার বহু পরিবারে কর্মসংস্থানের জন্য তরুণরা দেশের অন্য রাজ্য বা বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। ফলে অনেক প্রবীণ দম্পতি বা একাকী মানুষ দৈনন্দিন কাজ, চিকিৎসা ও জরুরি সহায়তার জন্য প্রতিবেশীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, অর্থনৈতিক সহায়তা পেলেও সন্তানদের শারীরিক উপস্থিতির অভাব পূরণ হয় না।
নতুন বিভাগের পরিকল্পনায় রয়েছে বাড়িভিত্তিক পরিচর্যা সম্প্রসারণ, সামাজিক কর্মকাণ্ডে প্রবীণদের সম্পৃক্ত করা, প্রশিক্ষিত সেবাকর্মী তৈরি, প্রবীণবান্ধব পার্ক, দিবাযত্ন কেন্দ্র ও ব্যায়াম সুবিধা গড়ে তোলা। একই সঙ্গে প্রবীণদের নিয়ে রাজ্যব্যাপী জরিপ পরিচালনা করে দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজ্য সরকারের কর্মকর্তারা বলছেন, বার্ধক্য এখন শুধু সামাজিক কল্যাণের বিষয় নয়; এটি স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, পরিবহন, স্থানীয় প্রশাসন, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও আর্থিক সেবার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। তাই সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রবীণদের জন্য কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কেরালায় দেশের অন্যান্য বড় রাজ্যের তুলনায় প্রবীণ মানুষের হার সবচেয়ে বেশি। আগামী বছরগুলোতে রাজ্যের প্রতি চারজনের একজনের বয়স ষাট বছরের বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, দীর্ঘায়ু, কম জন্মহার এবং দীর্ঘদিনের অভিবাসন প্রবণতা এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একাকীত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এখন প্রবীণদের অন্যতম বড় সমস্যা। তাই শুধু চিকিৎসা নয়, সামাজিক যোগাযোগ, স্বেচ্ছাসেবী সহায়তা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ভিত্তিক কর্মসূচিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসকদের মতে, দেশে প্রবীণদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি রয়েছে। অনেক বয়স্ক মানুষ এখনো এমন স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছেন, যা তাদের বিশেষ চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়। তাই প্রবীণবান্ধব স্বাস্থ্যকেন্দ্র, দিবাযত্ন সেবা এবং সামাজিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর উদ্যোগ প্রয়োজন।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ এবং প্রবীণ পরিচর্যা সেবার মান নিয়ন্ত্রণের জন্য শক্তিশালী নীতিমালাও জরুরি। এতে পরিবার থেকে দূরে থাকা প্রবীণদের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
প্রবীণদের আশা, ভবিষ্যতে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যেখানে জরুরি প্রয়োজনে ফোন করলেই দ্রুত সহায়তা পাওয়া যাবে এবং কেউ একাকীত্বে জীবন কাটাতে বাধ্য হবেন না।
















