প্রতিরক্ষা খাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি ও অস্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রে এখনো বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, গবেষণা ও উদ্ভাবনে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হওয়ায় দেশটি এখনো বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল।
সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে দেশের মোট প্রতিরক্ষা উৎপাদনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এসেছে বেসরকারি খাত থেকে। নজরদারি ব্যবস্থা, ড্রোন, গোলাবারুদ ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উৎপাদনে এসব প্রতিষ্ঠানের অবদান ক্রমেই বাড়ছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই অগ্রগতিকে নীতিগত সহায়তা, নতুন উদ্যোগ, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির ফল হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসরকারি খাত এখনো রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকল্প নয়; বরং তাদের সহযোগী হিসেবেই কাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন, ক্ষেপণাস্ত্র, উন্নত সেন্সর ও ইঞ্জিন প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এখনো সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় কারখানা এবং বিদেশি প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ওপর নির্ভরতা রয়েছে।
বর্তমানে শত শত লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং হাজার হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এই খাতে কাজ করছে। পাশাপাশি গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশীদার হিসেবে অনেক প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হয়েছে। তবুও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে গবেষণা ও উন্নয়নে আরও বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাষ্ট্রীয় শিল্প, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, নতুন প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগ এবং সরবরাহকারী নেটওয়ার্কের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানি বাজারেও প্রতিযোগিতা বাড়বে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা সামগ্রীর রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিশ্বের বহু দেশে এসব পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অস্ত্র আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যও সামনে রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক মহামারি, ইউরোপের যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট করেছে। এসব অভিজ্ঞতা প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতার প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করেছে।
অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, বিশ্বব্যাপী প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির বড় অংশই বেসরকারি খাতের উদ্ভাবন থেকে এসেছে। বিশেষ করে সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রযুক্তি উন্নয়নে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে বিশ্লেষকদের সতর্কতা, উন্নত ইঞ্জিন, প্রপালশন প্রযুক্তি এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সেন্সরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিদেশি নির্ভরতা এখনো কাটেনি। ফলে প্রকৃত আত্মনির্ভরতা অর্জনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
















