বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গত কয়েক দশকে উৎপাদননির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণ ও আর্থিক খাতনির্ভর ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার ফলে অর্থনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন এক বিশ্লেষক। তার মতে, এই পরিবর্তনের কারণে বহু রাষ্ট্র ধীরে ধীরে শিল্পভিত্তিক সক্ষমতা হারিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ঋণ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, উৎপাদন ও শিল্পায়নের পরিবর্তে ভোগকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক মডেল বিস্তৃত হওয়ায় জাতীয় অর্থনীতির শক্ত ভিত দুর্বল হয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রগুলোর ঋণের পরিমাণ বেড়েছে এবং অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বহিরাগত প্রভাবও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকের দাবি, আর্থিক খাতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম ক্ষেত্রেও বড় অর্থনৈতিক গোষ্ঠীর উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সাধারণ জনগণের স্বার্থের তুলনায় প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর স্বার্থ অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
তার মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে কেবল রাজনৈতিক মতাদর্শের বিভাজনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। বরং দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা ঋণনির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামো সম্পদ ও ক্ষমতাকে সীমিত কয়েকটি গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত করেছে।
তিনি আরও বলেন, একটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য নিজস্ব শিল্প, প্রযুক্তি, জ্বালানি ও খাদ্য উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সহযোগিতা বজায় রেখেও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জন সম্ভব বলে তিনি মত দেন।
বিশ্লেষকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে মানুষ অর্থনৈতিক বৈষম্য, ঋণনির্ভরতা এবং সম্পদের কেন্দ্রীকরণ নিয়ে আরও সচেতন হয়ে উঠছে। তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো আরও বেশি গুরুত্ব পাবে।
















