যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরোপ করেছে চীন। একই সঙ্গে প্রায় ৫০টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারি ক্রয় কার্যক্রমও সীমিত করেছে বেইজিং। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো এসব মার্কিন কোম্পানির কাছে ‘দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য’ (সামরিক ও বেসামরিক উভয় কাজে ব্যবহৃত) পণ্য রপ্তানি করতে পারবে না। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বিরল খনিজ (রেয়ার আর্থ) উৎপাদনকারী এমপি ম্যাটেরিয়ালস, ইউএসএ রেয়ার আর্থস এবং মহাকাশ, ড্রোন, রাডার ও প্রতিরক্ষা খাতে কাজ করা কয়েকটি মার্কিন কোম্পানি।
একই দিনে চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় লকহিড মার্টিন, বোয়িং, জেনারেল অ্যাটোমিকস ও জেনারেল ডায়নামিকসের সহযোগী প্রতিষ্ঠানসহ ৪৬টি মার্কিন কোম্পানিকে সরকারি ক্রয় তালিকা থেকে বাদ দেয়। তবে চীনে নিবন্ধিত ও স্থানীয়ভাবে পরিচালিত মার্কিন অর্থায়নপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিছু ছাড় দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) সম্প্রতি আলিবাবা, বাইদু ও বিওয়াইডিসহ প্রায় ৮০টি চীনা কোম্পানিকে সামরিক সংযোগের অভিযোগে কালো তালিকাভুক্ত করার পর বেইজিংয়ের এই পদক্ষেপ মূলত পাল্টা প্রতিক্রিয়া। যদিও দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা হয়েছে, তবুও প্রযুক্তি, সরবরাহ শৃঙ্খল ও কৌশলগত খনিজ সম্পদকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগ সীমাবদ্ধতাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে নতুন করে বাণিজ্য সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ফলে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
















