যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন আংশিকভাবে ইরানি তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ৬০ দিনের জন্য একটি বিশেষ ছাড় অনুমোদন করেছে, যার ফলে ইরানি তেলের উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রির পথ উন্মুক্ত হলো।
সোমবার জারি করা এই ছাড় ১৭ জুন স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বাস্তবায়নের অংশ। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং ইরান হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের প্রবেশের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
৬০ দিনের এই লাইসেন্সের আওতায় ইরানি অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে আমদানির সুযোগ থাকবে। তবে উত্তর কোরিয়া, কিউবা বা রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনীয় অঞ্চল সংশ্লিষ্ট কোনো লেনদেন এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।
এদিকে সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনার পর মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তান জানিয়েছে, উভয় পক্ষ ‘উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি’ অর্জন করেছে। আলোচনার অগ্রগতি তদারকির জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, চূড়ান্ত চুক্তির জন্য একটি ‘মজবুত ভিত্তি’ তৈরি হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় কিছু উত্তেজনা থাকলেও দুই পক্ষ শেষ পর্যন্ত আলোচনা অব্যাহত রেখেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো নতুন প্রতিশ্রুতি দেয়নি। তবে ভবিষ্যৎ কারিগরি আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা চলবে।
আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির খবরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩.৫ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৭.৭ ডলারে নেমে এসেছে।
একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও বাড়তে শুরু করেছে। ইরান সম্প্রতি প্রণালিটি বন্ধ করার ঘোষণা দিলেও সোমবার একাধিক এলএনজি ট্যাংকার ও সুপারট্যাংকার প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। শিপিং খাতের বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক সংকটের পর নৌযান চলাচলের প্রবণতা ইতিবাচক দিকে ফিরছে।
















