লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখতে এবং নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে একটি ‘ডিকনফ্লিকশন সেল’ গঠনের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন।
সোমবার অনুষ্ঠিত ওই আলোচনায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার নাজুক যুদ্ধবিরতি আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। কাতার ও পাকিস্তান, যারা সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছে, জানিয়েছে যে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ সমন্বয় কাঠামো বা ‘ডিকনফ্লিকশন সেল’ গঠনে সম্মতি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো ছোটখাটো সংঘাত বা উত্তেজনা যাতে বড় ধরনের সামরিক সংঘর্ষে রূপ না নেয়, তা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এদিকে মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন দফা আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে হিজবুল্লাহ এই আলোচনার সমালোচনা করে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
লেবানন ইস্যু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। তেহরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো স্থায়ী সমঝোতার জন্য লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ হতে হবে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েলের বিমান হামলায় লেবাননে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটলেও রোববার ও সোমবার পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিল জানিয়েছে, মার্চের পর প্রথমবারের মতো একদিনে উভয় পক্ষের কোনো বিমান হামলার চেষ্টা শনাক্ত হয়নি।
তবে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি এখনো ব্যাপক। জাতিসংঘ ও লেবাননের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিসাব অনুযায়ী, মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে দক্ষিণ লেবাননে প্রায় ১.৩৮ বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে এবং ১১ হাজারের বেশি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪,১৭৫ জন নিহত এবং ১২,১৬৪ জন আহত হয়েছেন।
















