ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে চলমান বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে একসঙ্গে ছবি তোলার বিষয়ে নতুন মন্তব্য করে আবারও বিতর্ক উসকে দিয়েছেন এক বিশ্বনেতা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, ইউরোপের ওই দেশের সরকারপ্রধান বারবার তার সঙ্গে ছবি তুলতে চেয়েছিলেন এবং অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্যই এমন আগ্রহ দেখিয়েছিলেন।
এর আগে তিনি গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যেও একই ধরনের দাবি করেছিলেন। তবে ওই সরকারপ্রধান তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ অস্বীকার করে মন্তব্যটিকে সম্পূর্ণ মনগড়া বলে উল্লেখ করেন।
নতুন প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, নিজের দেশের স্বার্থ রক্ষা করাই তার জনপ্রিয়তার মূল ভিত্তি এবং তিনি সবসময় সেই দায়িত্ব পালন করে আসছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, মিত্র দেশের নেতার কাছ থেকে বারবার এমন অপ্ররোচিত আক্রমণ অযৌক্তিক ও দুঃখজনক।
বিতর্কের সূত্রপাত মূলত মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে ঘিরে দুই দেশের অবস্থানগত পার্থক্য থেকে। সংশ্লিষ্ট ইউরোপীয় দেশটি সামরিক পদক্ষেপের প্রতি পূর্ণ সমর্থন না দেওয়ায় দুই নেতার সম্পর্কের অবনতি ঘটে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় বিশ্বনেতা আরও অভিযোগ করেন, সামরিক সংঘাতের পর পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় এখন আবার সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে তিনি এ ধরনের প্রচেষ্টায় আগ্রহী নন বলেও ইঙ্গিত দেন।
বিতর্কের জেরে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। ওই ইউরোপীয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নির্ধারিত সফর বাতিল করে মন্তব্য করেন, মিত্র দেশের সরকারপ্রধান সম্পর্কে করা মন্তব্য শুধু একজন নেতাকে নয়, পুরো দেশকেই অপমান করেছে।
এদিকে সরকারপ্রধান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বলেন, পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিপক্ষদের তুলনায় মিত্রদের প্রতিই বেশি কঠোর আচরণ করা হচ্ছে, যা হতাশাজনক। তার মতে, যাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন, তাদের ক্ষেত্রে একই ধরনের কড়াকড়ি দেখা যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন কূটনৈতিক ইস্যুতে মতপার্থক্যের কারণে দুই নেতার সম্পর্কে দৃশ্যমান দূরত্ব তৈরি হয়েছে। নতুন এই বাকযুদ্ধ সেই দূরত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
















