যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী সমঝোতা চুক্তিকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলে রাজনৈতিক ও জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে অভিযোগ উঠেছে, এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তাদের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্রকে উপেক্ষা করে ইরানের প্রতি ছাড় দিয়েছে।
ইসরায়েলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত একাধিক মতামতধর্মী লেখায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এই চুক্তি ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগকে উপেক্ষা করেছে এবং ভবিষ্যতে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ইরানকে তাদের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তুলে ধরে আসছে। তাদের অভিযোগ, ইরান পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের পথে রয়েছে এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার করছে।
সাম্প্রতিক সমঝোতা অনুযায়ী, চলমান সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে এই শর্তগুলো ইসরায়েলের একটি বড় অংশের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। জনমত জরিপে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাগরিক চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যৎ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করছেন।
সরকারি পর্যায়েও মতভেদ স্পষ্ট হয়েছে। দেশটির কয়েকজন ডানপন্থী মন্ত্রী প্রকাশ্যে চুক্তির বিরোধিতা করেছেন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রশ্নে আরও কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইসরায়েলের সমালোচনার জবাব দিয়ে বলেছেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। তাদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্য আরও ক্ষতিকর হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক অটুট থাকলেও সাম্প্রতিক চুক্তি দুই পক্ষের মধ্যে নীতিগত মতপার্থক্যকে সামনে নিয়ে এসেছে। তারা বলছেন, ভবিষ্যৎ আলোচনার অগ্রগতি এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করবে এই সম্পর্কের পরবর্তী গতিপথ।
















