যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) নিয়ে ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির শর্তসাপেক্ষ সমর্থন দেশটির রক্ষণশীল ও কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে আরও সক্রিয় করে তুলেছে। তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের ছাড় বা আপসের বিরোধিতা করছে।
সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, খামেনি ব্যক্তিগতভাবে চুক্তির বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করলেও প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের দায়িত্ব গ্রহণের পরিপ্রেক্ষিতে সমঝোতা স্মারকে অনুমোদন দিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত দাবি তুললে ইরান তা মেনে নেবে না।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান চুক্তিটিকে “ঐতিহাসিক দলিল” হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এটি পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা বহন করে। অন্যদিকে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, এটি কেবল দীর্ঘ ও কঠিন আলোচনার সূচনা।
তবে কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো চুক্তির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে। বিভিন্ন শহরে আয়োজিত সমাবেশে তারা সরকারের মধ্যপন্থী নেতৃত্বের সমালোচনা করছে এবং দাবি করছে, ইরানের কৌশলগত স্বার্থ বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।
কয়েকজন রক্ষণশীল সংসদ সদস্য পার্লামেন্ট পুরোপুরি চালুর দাবি জানিয়েছেন, যাতে প্রয়োজনে জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি আটকে দেওয়া যায়। একইসঙ্গে প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতারাও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত শেষ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন।
ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোতেও বিভক্ত প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রক্ষণশীল পত্রিকাগুলো খামেনির শর্তযুক্ত অনুমোদনের ওপর জোর দিলেও সংস্কারপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলো সমঝোতাকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা নিয়ে ইরানের ক্ষমতাকেন্দ্রগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য আগামী দিনগুলোতে আরও স্পষ্ট হতে পারে। ফলে ৬০ দিনের আলোচনাপ্রক্রিয়া শুধু ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কের জন্যই নয়, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভারসাম্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
















