দক্ষিণ আফ্রিকায় অনথিভুক্ত অভিবাসীদের দেশ ছাড়ার নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অভিবাসীবিরোধী আন্দোলনের চাপের মুখে হাজারো বিদেশি নাগরিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অনেকেই নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
দেশটির একটি উপকূলীয় শহরে খোলা মাঠে কয়েক হাজার বিদেশি নাগরিক আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা শ্রমজীবী মানুষ। অনেকের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু ব্যক্তি বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে এবং দেশ ছাড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।
এক নারী জানান, অস্ত্রধারী কয়েকজন ব্যক্তি তার বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়। হামলায় তার স্বামী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি ছোট শিশুদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়ে এসেছেন।
চলতি বছর বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক গোষ্ঠী অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছে। তাদের দাবি, বিদেশিরা দেশের সীমিত কর্মসংস্থান ও সরকারি সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। তাদের আশঙ্কা, উত্তেজনা আরও বাড়লে অতীতের মতো সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে।
অনেক বিদেশি নাগরিক ইতোমধ্যে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যেতে শুরু করেছেন। বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশন বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে সহায়তা করছে।
অভিবাসীবিরোধী আন্দোলনের নেতারা দাবি করছেন, তাদের কর্মসূচি বিদেশিবিদ্বেষমূলক নয়। তারা শুধু দেশের আইন কার্যকর এবং অনথিভুক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যাবাসন চান। তবে সমালোচকদের মতে, এসব কর্মসূচি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদেশিদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মনোভাব উসকে দিচ্ছে।
দেশটির সরকার একদিকে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে বিদেশিবিদ্বেষ ও হয়রানির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তাও দিয়েছে। সরকার জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাস্তাঘাটে অন্যের নাগরিকত্ব বা পরিচয় যাচাই করার অধিকার রাখে না।
বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ বেকারত্ব, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার কারণে অভিবাসন ইস্যু এখন বড় রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন পক্ষ বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে বৈধ কাগজপত্র থাকা অনেক বিদেশিও নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না। কেউ কেউ সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন, আবার অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
















