যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৌশলগত বোমারু বিমান উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্যালিফোর্নিয়ার মরুভূমি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা আটজনই নিহত হয়েছেন বলে সামরিক কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার নিয়মিত পরীক্ষামূলক মিশনে অংশ নেওয়ার সময় বিমানটি একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। আকাশে ওঠার অল্প সময়ের মধ্যেই এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনাস্থলটি লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত মরুভূমি এলাকায়।
ঘটনার পর আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকায় আগুন জ্বলছে এবং ঘন কালো ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল দ্রুত পৌঁছালেও কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এক সংবাদ সম্মেলনে ঘাঁটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে যে দুর্ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে এতে কারও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ছিল না। তিনি নিহতদের দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ সেবক হিসেবে উল্লেখ করে তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
সামরিক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি একটি রাডার আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিচালিত মিশনে অংশ নিয়েছিল। এতে সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি বেসামরিক সরকারি কর্মী এবং সরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও ছিলেন।
দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হতে ছয় মাস বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। তদন্তে যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রযুক্তিগত সমস্যা কিংবা অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখা হবে।
দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট বিমানঘাঁটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আগত সব বিমানকে বিকল্প বিমানঘাঁটিতে পাঠানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
মার্কিন বিমানবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা নিহতদের আত্মত্যাগ ও দায়িত্ববোধের প্রশংসা করে বলেছেন, দেশের নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তাদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের স্পিকারও নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সাহস ও আত্মত্যাগ দেশের জন্য অনন্য উদাহরণ।
বিধ্বস্ত বিমানটি দীর্ঘপাল্লার কৌশলগত বোমারু বিমান হিসেবে পরিচিত। এটি প্রচলিত ও পারমাণবিক—উভয় ধরনের অস্ত্র বহনে সক্ষম। কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাত ও সামরিক অভিযানে এই ধরনের বিমান ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম পরিচিত এই বোমারু বিমানের দুর্ঘটনা বিমানবাহিনীর জন্য বড় ধাক্কা। তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতে একই ধরনের বিমানের নিরাপত্তা ও পরিচালনা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত।
















