যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তির ঝুঁকির মাত্রা ‘উচ্চ’ থেকে ‘সংকটজনক’ পর্যায়ে উন্নীত করেছে বলে দেশটির গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধ এবং তা বন্ধে চলমান আলোচনা ঘিরে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা হচ্ছে, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে। বিশেষ করে হোয়াইট হাউসে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে যুদ্ধ নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যও আলোচনায় এসেছে। ট্রাম্প বারবার যুদ্ধের সমাপ্তি চান বলে জানালেও নেতানিয়াহু যুদ্ধ পুনরায় শুরুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি প্রথম নজরে আসে ২০২৪ সালের শেষ দিকে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রশাসন গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিষয়ে চাপ বাড়াতে শুরু করেছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালেও এই নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।
এ ছাড়া মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রতিরক্ষা দপ্তরের জ্যেষ্ঠ নীতিনির্ধারকদের ওপরও নজরদারির চেষ্টা হয়েছে বলে গোয়েন্দা মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে।
যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি, তবে এক মুখপাত্র এসব প্রতিবেদনের তথ্যকে ‘ভুল’ বলে দাবি করেছেন।
তবুও বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে বিপুল সামরিক সহায়তা ও অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে।
প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, মিত্র দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক গোয়েন্দা তৎপরতা অস্বাভাবিক নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের তৎপরতার মাত্রা অন্য সব মিত্র দেশের তুলনায় বেশি বলে মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন।
আগের কয়েকটি ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার সদরদপ্তরে আড়িপাতার যন্ত্র স্থাপনের চেষ্টা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর একটি গাড়িতে একই ধরনের যন্ত্র বসানোর অভিযোগ রয়েছে।
















