সাত বছর পর প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। দেশটির নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তাঁর এই বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই সফর বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
চীনের শীর্ষ নেতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশ সফর উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছেন। সাধারণত বিভিন্ন দেশের নেতারাই বেইজিংয়ে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাই এবার তাঁর উত্তর কোরিয়া সফরের সিদ্ধান্তকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। অস্ত্র, গোলাবারুদ ও জনশক্তি সরবরাহের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এর বিনিময়ে দেশটি উন্নত সামরিক প্রযুক্তি ও অন্যান্য সুবিধা পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকলেও বেইজিং দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর কোরিয়ার সামরিক শক্তি অতিরিক্ত বৃদ্ধি নিয়ে সতর্ক। বিশেষ করে রাশিয়ার সহায়তায় উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বাড়লে কোরীয় উপদ্বীপের শক্তির ভারসাম্যে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
চলতি বছর ইতিমধ্যে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। সম্প্রতি দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিনির্ভর নতুন কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র এবং অস্ত্রমানের পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন কারখানার তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেশটির সামরিক সক্ষমতা আরও দ্রুত বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া আশা প্রকাশ করেছে,শি জিন পিংয়ের এই সফর কোরীয় উপদ্বীপের বিভিন্ন অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, উত্তর কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সংলাপ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও এই সফরের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা চীনের জন্য উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুসংহত করা, আঞ্চলিক প্রভাব ধরে রাখা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যেই সি চিন পিংয়ের এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
















