৬০০’র বেশি ড্রোন ও ৪৭ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আট অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
ডনিপ্রোতে সবচেয়ে বেশি হতাহত, বেসামরিক স্থাপনাই প্রধান লক্ষ্য
রাশিয়ার রাতভর ব্যাপক হামলায় ইউক্রেনে অন্তত ৫ জন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হামলার মূল লক্ষ্য ছিল দেশের আটটি অঞ্চল, যেখানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ডনিপ্রো শহর। সেখানে ২০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ বছর বয়সী একটি শিশু ও দুইজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের জাতীয় পুলিশ।
উত্তরের চেরনিহিভ অঞ্চল-এর নিঝিন শহরে দুইজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া খারকিভ অঞ্চল-এ এক বছরের একটি শিশুসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছে।
ডনিপ্রোর একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানার পর সেখানে উদ্ধার অভিযান চলছে। একই সঙ্গে চেরনিহিভ, ওডেসা এবং খারকিভসহ বিভিন্ন এলাকায় জরুরি সেবা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
ডোনেৎস্ক অঞ্চলেও হামলায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। স্লোভিয়ানস্ক ও ক্রামাতোরস্ক শহরে হামলায় আবাসিক ভবন, পোস্ট অফিস ও একটি গির্জাসহ একাধিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, এই হামলায় মোট ৬১৯টি ড্রোন এবং ৪৭টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এর মধ্যে ৬১০টি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার হামলার কৌশল অপরিবর্তিত রয়েছে এবং শহরের বেসামরিক অবকাঠামোই প্রধান লক্ষ্যবস্তু।
এর আগে ওডেসায় রুশ হামলায় ৭৫ বছর বয়সী এক দম্পতি নিহত হন, যা সাম্প্রতিক হামলার ধারাবাহিকতার অংশ।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। ইউক্রেন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, কারণ বিলম্ব হলে রাশিয়া নতুন কৌশল নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, চলমান সংঘাতে আবারও স্পষ্ট—বেসামরিক জনগণই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
















