যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরের হাই স্ট্রিট এলাকার ছোট দোকানগুলোতে প্রকাশ্যে কোকেন, গাঁজা ও প্রেসক্রিপশন ওষুধ বিক্রি হচ্ছে—এক গোপন অনুসন্ধানে এমন তথ্য উঠে এসেছে। গণমাধ্যমের গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা এই তদন্তে দেখা গেছে, সংগঠিত অপরাধচক্র এসব দোকানকে ব্যবহার করে অবৈধ মাদক ব্যবসা চালাচ্ছে।
সহজেই মিলছে মাদক
তদন্তকারীরা ছদ্মবেশে কয়েকটি দোকানে গিয়ে খুব সহজেই মাদক কেনার প্রস্তাব পেয়েছেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই গাঁজা সরবরাহ করা হয়েছে এবং অল্প সময়ের মধ্যে কোকেনও এনে দেওয়া হয়েছে। এমনকি দোকানের ভেতর থেকেই বিভিন্ন প্রেসক্রিপশন ওষুধ বিক্রির অফার দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ
একাধিক এলাকায় পরিস্থিতিকে “আইনহীন” বলে বর্ণনা করেছেন এক আইনশৃঙ্খলা সূত্র। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, অপরাধচক্রের ভয়ে তারা আতঙ্কে থাকেন এবং অনেক ক্ষেত্রে ছুরি ও বন্দুক হামলার ঘটনাও ঘটছে।
দেশজুড়ে বিস্তৃতি
তদন্তে দেখা গেছে, দেশজুড়ে অন্তত ৭০টির বেশি দোকান ও সংশ্লিষ্ট স্থানে মাদক পাওয়া গেছে। এসব দোকান সংগঠিত অপরাধচক্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
শিশুদের কাছেও পৌঁছাচ্ছে মাদক
কিছু এলাকায় শিশুদের কাছেও হাসির গ্যাস বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। দোকানের বাইরে থেকে গোপনে এসব সরবরাহ করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের ক্ষতি ও ভীতি
বৈধ ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, অবৈধ পণ্যের কারণে তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কেউ কেউ জানিয়েছেন, দোকান দখলের উদ্দেশ্যে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং দোকান ভাঙচুর করা হচ্ছে।
সরকারি পদক্ষেপের দাবি
এই পরিস্থিতিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু সাময়িকভাবে দোকান বন্ধ করলেই সমস্যা সমাধান হচ্ছে না, কারণ অপরাধীরা আবার অন্য জায়গায় ব্যবসা শুরু করছে।
সরকার জানিয়েছে, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এসব অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্যকরভাবে এই সমস্যা মোকাবিলায় আরও কঠোর আইন এবং দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি প্রয়োজন।















