ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ বিমান সংস্থা লুফথানসা ঘোষণা দিয়েছে, বাড়তি জ্বালানি খরচের কারণে তারা গ্রীষ্মকালীন সময়সূচি থেকে প্রায় ২০ হাজার স্বল্প দূরত্বের ফ্লাইট বাতিল করবে। সংস্থাটি বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক রুট পরিচালনা করা আর লাভজনক থাকছে না।
বিশ্ববাজারে জেট জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার পেছনে বড় কারণ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ। এই সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি উৎপাদন ও পরিবহন ব্যাহত হয়েছে, ফলে দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতির প্রভাব শুধু লুফথানসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাও ফ্লাইট কমানো কিংবা টিকিটের দাম বাড়ানোর পথে হাঁটছে। যাত্রীদের ওপর বাড়তি খরচ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে আরও ফ্লাইট বাতিল এবং ভাড়াবৃদ্ধি দেখা যেতে পারে।
ইউরোপের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, তাদের প্রায় অর্ধেক বিমান জ্বালানি আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে, যার বড় অংশ পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। এই পথ কার্যত বন্ধ থাকায় সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে।
লুফথানসা জানিয়েছে, ফ্লাইট কমানোর মাধ্যমে তারা প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি সাশ্রয় করতে পারবে। এর অংশ হিসেবে কিছু শহরে যাতায়াত সাময়িকভাবে বন্ধ করা হচ্ছে এবং তাদের সিটি লাইন সেবা সংকুচিত করা হচ্ছে।
যাত্রীদের জন্য বিকল্প হিসেবে একই গ্রুপের অন্যান্য এয়ারলাইনের ফ্লাইটে স্থানান্তর বা টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা সতর্ক করেছে, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ইউরোপে জেট জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। যদিও কিছু সরকার ও বিমান সংস্থা বলছে, এখনো বড় ধরনের সরবরাহ সংকট দেখা যায়নি।
সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক সংঘাতের প্রভাব সরাসরি পড়ছে বিমান খাতে, যার ফলে ভ্রমণ ব্যয় বাড়া এবং ফ্লাইট সংকোচনের নতুন বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে।















