লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন সাংবাদিকও রয়েছেন। এতে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আরও চাপে পড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি।
বুধবার দক্ষিণ লেবাননের আত-তিরি গ্রামে প্রথম হামলায় একটি গাড়িতে আঘাত হানে ইসরায়েলি বাহিনী, এতে গাড়িতে থাকা দুইজন নিহত হন। পরে একই এলাকায় একটি ভবনে আরেকটি বিমান হামলা চালানো হয়।
এই হামলায় গুরুতর আহত হন সাংবাদিক আমাল খলিল, যিনি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আল আখবার-এ কাজ করতেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ার পর তাকে উদ্ধার করা হলেও পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমাল খলিল ও তার সহকর্মী জেইনাব ফারাজ প্রথম হামলার ঘটনাস্থলে খবর সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধারকর্মীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারেননি, কারণ এলাকায় ধারাবাহিক হামলা চলছিল। ফারাজকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, সাংবাদিকরা যে ভবনে আশ্রয় নিয়েছিলেন সেটিও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় এবং অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে বাধা দিতে সংযোগ সড়কেও আঘাত করা হয়।
লেবাননের তথ্য মন্ত্রী পল মোরকোস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে।
তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না এবং উদ্ধারকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহ সংশ্লিষ্ট স্থাপনা থেকে বের হওয়া দুটি যানবাহন।
একই দিনে দক্ষিণ লেবাননের ইয়োহমর আল-শাকিফ এলাকায় আরেকটি হামলায় আরও দুইজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলি অবস্থানে ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা তাদের মতে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব।
গত মাস থেকে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত লেবাননে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
















