মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে দুইটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করেছে ইরান, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ইরানের সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জানিয়েছে, জাহাজগুলো সমন্বয় ছাড়া ওই জলপথে প্রবেশ করে সামুদ্রিক নিয়ম ভঙ্গ করেছিল। পরে সেগুলোকে ইরানের উপকূলে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে ওমান উপকূলের কাছে একটি কন্টেইনার জাহাজে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানায়, একটি ইরানি নৌযান জাহাজটির কাছে গিয়ে গুলি চালায়, এতে জাহাজটির ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে হয়, ফলে এটি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, এই পদক্ষেপ তাদের জলপথে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কৌশলের অংশ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই পথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর জন্য অনুমতি ও ট্রানজিট ফি আরোপের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
এদিকে ইরান অভিযোগ করেছে, ওমান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তারা এটিকে “সশস্ত্র জলদস্যুতা” বলে অভিহিত করেছে।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান হরমুজ প্রণালীকে কৌশলগত চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে এবং ভবিষ্যৎ আলোচনায় এটিকে বড় সুবিধা হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে অবিশ্বাস ও উত্তেজনা এখনো উচ্চমাত্রায় থাকায় পরিস্থিতি যেকোনো সময় আরও জটিল হতে পারে।
















