ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, কেবল মস্কো সফর করে কিয়েভে না যাওয়া মার্কিন দূতদের আচরণ তার কাছে অসম্মানজনক মনে হয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে একাধিকবার গেছেন, কিন্তু কখনও ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে সরকারি সফর করেননি।
জেলেনস্কি বলেন, এটি সম্মানের অভাবের ইঙ্গিত দেয়। তিনি আরও বলেন, ভ্রমণ জটিলতা থাকলেও চাইলে অন্য কোনো দেশে বৈঠক করা যেত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে উইটকফ ও কুশনার যুদ্ধবিরতি আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সরে যাওয়ায় ইউক্রেন ইস্যু কিছুটা পেছনে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা ২০২৫ সালের শেষ দিকে গতি পায়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার খসড়া সামনে আসে। তবে এতে ইউক্রেনের জন্য প্রতিকূল শর্ত থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এখনও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু অমীমাংসিত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউক্রেন থেকে নিয়ে যাওয়া শিশুদের ফেরত দেওয়ার দাবি এবং কিয়েভে রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য মস্কোর অবস্থান।
সবচেয়ে বড় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল ডনবাস অঞ্চল নিয়ে। রাশিয়া ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ দাবি করছে, যা ইউক্রেন কোনোভাবেই মেনে নিতে রাজি নয়।
২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ চার বছরের বেশি সময় ধরে চলছে। পূর্ব ইউক্রেনের বড় অংশ এখন রুশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং দীর্ঘ ফ্রন্টলাইনে উভয় পক্ষের মধ্যে লড়াই অব্যাহত আছে।
নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। পাল্টা হামলায় ইউক্রেনও রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে আঘাত বাড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি আলোচনার অগ্রগতি অনিশ্চিত রয়ে গেছে, যদিও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
















