যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে সামান্য পতন দেখা গেছে।
এশিয়ার বাজারে বুধবার লেনদেনের শুরুতে দাম বাড়লেও পরে তা কমে যায়। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম শূন্য দশমিক আট শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৬০ ডলারে নেমে আসে। একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম প্রায় এক শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৮৮ দশমিক ৭০ ডলারে।
ট্রাম্প জানান, ইরান একটি সমন্বিত প্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বন্দর অবরোধ অব্যাহত রাখবে। তবে আলোচনার অগ্রগতি বজায় রাখতে যুদ্ধবিরতি চালু রাখা হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা চলছে। এর জবাবে ইরান গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দেয়, যা বিশ্ববাজারে উদ্বেগ বাড়ায়।
দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি বুধবার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এর নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সরকার ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং পাকিস্তানের আহ্বানে আরও সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-এর, যিনি পাকিস্তানে যাওয়ার কথা থাকলেও পরে সফর স্থগিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরান এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি তারা আলোচনায় অংশ নিতে প্রতিনিধি পাঠাবে কি না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে অনিশ্চয়তা এখনো রয়ে গেছে এবং বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের সরবরাহের চেয়ে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে প্রত্যাশাই বাজারকে বেশি প্রভাবিত করছে।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ পথে বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
















