সুদানের সংঘাতে কলম্বিয়ার ভাড়াটে যোদ্ধারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহায়তায় আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন দিয়েছে বলে এক নতুন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষণ সংস্থা কনফ্লিক্ট ইনসাইটস গ্রুপের তদন্তে মোবাইল ফোনের অবস্থানগত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সুদানে ব্যবহৃত ৫০টির বেশি ফোন শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলোর ব্যবহারকারীরা ছিলেন কলম্বিয়ান যোদ্ধা।
সংস্থাটির মতে, এসব যোদ্ধা ড্রোন পরিচালনা, গোলন্দাজ সহায়তা এবং প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো কাজে যুক্ত ছিল, যা পশ্চিম দারফুরের এল-ফাশের শহর দখলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ওই শহর দখলকে সংঘাতের সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই যোদ্ধাদের একটি অংশ আবুধাবির একটি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে সুদানে যায়। ফোনের গতিবিধি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কিছু ডিভাইস কলম্বিয়া থেকে আবুধাবি হয়ে সুদানে প্রবেশ করেছে এবং পরবর্তীতে আরএসএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সক্রিয় ছিল।
কিছু ফোনে স্প্যানিশ ভাষায় নাম দেওয়া ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক যেমন “অ্যান্টিএয়ারক্রাফট” ও “এয়ারডিফেন্স”-এ সংযোগের তথ্য পাওয়া গেছে, যা ড্রোন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এল-ফাশের অবরোধের সময়ও এসব যোদ্ধাদের উপস্থিতি পাওয়া গেছে এবং তাদের সহায়তায় ড্রোন হামলা পরিচালিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও জাতিসংঘের তদন্তকারীরা ওই সময়ের সহিংসতাকে যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বলে উল্লেখ করেছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত বরাবরই আরএসএফকে সমর্থনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং এই অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। তবে এই নতুন গবেষণায় সরাসরি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করছে তদন্তকারী সংস্থাটি।
বিশ্লেষকদের মতে, সুদানের গৃহযুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার পেছনে বিদেশি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলম্বিয়ান ভাড়াটে যোদ্ধারা একটি ব্রিগেডের অংশ হিসেবে কাজ করছিল এবং তাদের নিয়োগ ও অর্থায়নের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের যোগসূত্র রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে কলম্বিয়ার কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে সুদানে ভাড়াটে যোদ্ধা পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। তবে তারা এখনো সরাসরি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পৃক্ততার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
















