নাইজেরিয়ায় প্রেসিডেন্টকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করেছে কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এবং একজন কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন।
আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্তরা পরস্পরের সঙ্গে যোগসাজশ করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা এবং প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু-কে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিকল্পনা করেছিলেন।
অভিযুক্ত ছয়জন বর্তমানে হেফাজতে রয়েছেন। এছাড়া সাবেক এক প্রাদেশিক গভর্নরকেও এই ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে, তবে তিনি এখনো পলাতক।
প্রথমদিকে সরকার এই ধরনের কোনো ষড়যন্ত্রের কথা অস্বীকার করলেও পরে জানায়, সামরিক বাহিনীর কয়েকজন সদস্যকে সরকারের বিরুদ্ধে পরিকল্পনার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
২০২৫ সালে মোট ১৬ জন সামরিক কর্মকর্তাকে আটক করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। সেই ঘটনাকে ঘিরেই অভ্যুত্থানচেষ্টার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্যও পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় করেছিলেন এবং অন্যদের সহায়তা দিয়েছেন।
নাইজেরিয়া অতীতে একাধিক সামরিক অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা থাকলেও ১৯৯৯ সালে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা চালুর পর থেকে দেশে আর কোনো অভ্যুত্থান ঘটেনি।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে অভ্যুত্থান ও অভ্যুত্থানচেষ্টার ঘটনা বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা সংকট এবং তরুণদের অসন্তোষ এসব ঘটনার পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে।
সব মিলিয়ে, এই মামলাকে নাইজেরিয়ার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
















