টানা সাত ঘণ্টা পর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা একটার পর এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন কর্মকর্তারা। এতে গ্যাস সঙ্কট ধীরে ধীরে কমছে।কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল দুটি। কারিগরি ত্রুটি দেখা যায় একটিতে। পরে গতকাল সকাল ৬টা থেকে বন্ধ থাকে সরবরাহ। তার আগে সোমবার পর্যন্ত দুটি টার্মিনাল থেকে এক দিনে এলএনজি সরবরাহ হয়েছে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। মঙ্গলবার সকাল থেকে সেই সরবরাহ নেমে আসে ৫৬১ মিলিয়ন ঘনফুটে।
এলএনজি সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নামায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা ও চট্টগ্রামের ভারী শিল্পাঞ্চলগুলোতে। চলমান গ্যাস সঙ্কট আরো তীব্র আকার ধারণ করে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের একজন কর্মকর্তা জানান, গতকাল দুটি টার্মিনাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ করার কথা ছিল ৯৬০ মিলিয়ন ঘনফুট। কারিগরি ত্রুটির কারণে একটির সরবরাহ বন্ধ সকাল ৬টা থেকে। ত্রুটি সারিয়ে গ্যাস সরবরাহ চালু হয় দুপুর ১টা থেকে। শিডিউল অনুযায়ী, দুটি টার্মিনালের ৯৬০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করছে।
কক্সবাজারের মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সক্ষমতা দিনে ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং দেশীয় সামিট গ্রুপের টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। আমদানীকৃত তরল এলএনজি বিশেষায়িত জাহাজের মাধ্যমে আনা হয় গভীর সমুদ্রের এ টার্মিনালগুলোতে। যেখানে তরল গ্যাসকে পুনরায় বায়বীয় অবস্থায় রূপান্তর করা হয়। এরপর মহেশখালী থেকে চট্টগ্রাম হয়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয় পাইপলাইনের মাধ্যমে।
বাংলাদেশে বর্তমানে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৫৭০ থেকে ২ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। এ সরবরাহের মধ্যে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট আসে আমদানীকৃত এলএনজি থেকে।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশীয় গ্যাসফিল্ড ও আমদানীকৃত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটসিএল)। দিনে শিল্প, বিদ্যুৎ, ভারী শিল্প ও আবাসিক খাতে রেশনিং উপায়ে গ্যাস সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানটি।
















