ভারত মহাসাগরে ইরানের তেল বহনের অভিযোগে একটি তেলবাহী জাহাজ আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী, জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগ। এই ঘটনা ঘটেছে এমন সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রান্তে এবং নতুন করে আলোচনা শুরু হবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্যমতে, এম টি টিফানি নামের জাহাজটিতে রাতের অন্ধকারে অভিযান চালিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীর আওতায় এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানকে সহায়তা দেয় এমন নিষিদ্ধ জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্র দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং বিশ্বের যেকোনো স্থানে এ ধরনের কার্যক্রম চালানো হবে।
একজন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, জাহাজটি বঙ্গোপসাগর এলাকায় ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মাঝামাঝি অবস্থান থেকে আটক করা হয় এবং এতে ইরানের তেল বহন করা হচ্ছিল। জাহাজটির ভবিষ্যৎ বিষয়ে পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তথ্য অনুযায়ী, বতসোয়ানা পতাকাবাহী এই জাহাজটির সর্বশেষ অবস্থান ধরা পড়ে শ্রীলঙ্কা ও মালাক্কা প্রণালীর মাঝামাঝি এলাকায় এবং এটি সিঙ্গাপুরের দিকে যাচ্ছিল। অতীতে জাহাজটি সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার কাছাকাছি এলাকায় একাধিকবার জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত ছিল।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, জাহাজটি চলতি মাসের শুরুতে ইরানের খারগ দ্বীপ থেকে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করে এবং পরে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে।
এই অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমা নিষিদ্ধ জাহাজের জন্য নিরাপদ আশ্রয় নয়।
অন্যদিকে, ইরান এই ঘটনাকে সমুদ্রদস্যুতা এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ চলমান আলোচনার আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি পণ্যবাহী জাহাজও জব্দ করে, যা অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলে দাবি করা হয়।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, কোনো সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর অবরোধ অব্যাহত থাকবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইতোমধ্যে একাধিক জাহাজ এই অবরোধ এড়িয়ে চলাচল করতে সক্ষম হয়েছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য নতুন দফার আলোচনার বিষয়টি নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
















