নির্বাচন প্রস্তুতি: ৪৮ হাজার পুলিশ সদস্যের বিশেষ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন
মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সরকার ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্ছিদ্র রাখতে সকল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুত হচ্ছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স জানিয়েছে যে ৪৮ হাজার পুলিশ সদস্য তাদের বিশেষ নির্বাচনী প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) এক ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে প্রশিক্ষণের এই অগ্রগতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন যে, সরকার আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত রয়েছে।
নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, মোট ৭ লাখ ৬৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য (পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ – বিজিবি এবং আনসার ও ভিডিপি) নিরপেক্ষতা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত হচ্ছেন। এর মধ্যে, ১ লাখ ৫০ হাজার পুলিশ সদস্যকে আইন ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের দ্বারা প্রণীত ৯টি প্রশিক্ষণ মডিউলের অধীনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, দেশের ৪৫ হাজার ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫ লাখ ৮৫ হাজার আনসার ও ভিডিপি সদস্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে ১ লাখ ৩৫ হাজার সদস্য সশস্ত্র এবং ৪ লাখ ৫০ হাজার সদস্য নিরস্ত্র থাকবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে ১৩ জন নিরাপত্তা সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া, ৩৩ হাজার বিজিবি সদস্য (১ হাজার ১০০ প্লাটুন) নির্বাচনের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, যা ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণভাবে, সংসদ নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৮০ হাজার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে মাঠে থাকবে। এদের মধ্যে ৯০ হাজার সেনাসদস্য, আড়াই হাজার নৌবাহিনীর সদস্য এবং দেড় হাজার বিমানবাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকার কথা রয়েছে, যেখানে প্রতিটি উপজেলায় এক কোম্পানি সেনা মোতায়েন করা হবে।
নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত শনিবার (১ নভেম্বর) তিন বাহিনীর প্রধানদের সাথে বৈঠক করেছেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তিনি ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ হয়, সে বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য তিন বাহিনীর প্রধানদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
















