ভারতে প্রস্তাবিত ডিজিটাল গণমাধ্যম সংশোধনী নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে সরকারের হাতে অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির অতিরিক্ত ক্ষমতা চলে যাবে।
সংস্থাটি তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া বিশ্লেষণে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত নিয়ম বাস্তবায়ন হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো কার্যত রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীতে পরিণত হবে। এতে ব্যবহারকারী ও প্ল্যাটফর্মের বিদ্যমান আইনি সুরক্ষা দুর্বল হয়ে পড়বে।
২০২৬ সালের তথ্যপ্রযুক্তি সংশোধনী বিধিমালায় বড় পরিবর্তন হলো, শুধুমাত্র পেশাদার সংবাদমাধ্যম নয়, সাধারণ ব্যবহারকারীদের পোস্টও এর আওতায় আসবে। “সংবাদ ও সমসাময়িক বিষয়বস্তু” নামে বিস্তৃত সংজ্ঞার ফলে প্রায় সব ধরনের সামাজিক বা রাজনৈতিক মতামত সরকারি পর্যবেক্ষণের মধ্যে পড়ে যেতে পারে।
প্রস্তাবনায় একটি সরকারি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটিকে অভিযোগ ছাড়াই কনটেন্ট সরানো, পরিবর্তন বা ব্লক করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এছাড়া জরুরি পরিস্থিতিতে মাত্র এক থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে কনটেন্ট সরানোর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নাও থাকতে পারে।
আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াতেও স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ১৫ দিনের জনমত গ্রহণের সময়সীমাকে সমালোচকরা অপর্যাপ্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্ল্যাটফর্মগুলোকে অন্তত ১৮০ দিন পর্যন্ত ব্যবহারকারীর তথ্য সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি নজরদারির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সমালোচকদের মতে, ২০২১ সালের পর থেকে একাধিকবার এই বিধিমালা সংশোধন করা হয়েছে, যা ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। তারা মনে করছেন, নতুন কাঠামোটি আগের বিতর্কিত তথ্য যাচাই ইউনিটের পুনরাবৃত্তি, যা আদালত অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিল।
মানবাধিকার সংগঠনটির মতে, এই সংশোধনী আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয়তা ও ন্যায্যতার শর্ত পূরণ করে না। তারা সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে, ডিজিটাল পরিসরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান বিধিমালা পুনর্বিবেচনা করার জন্য।
















