বিশ্বজুড়ে গত তিন বছরে এক হাজারের বেশি ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি এই ঘটনাকে “নিরাপত্তা ব্যবস্থার পতন” হিসেবে বর্ণনা করেছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান জানিয়েছেন, শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই অন্তত ৩২৬ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। গত তিন বছরে মোট নিহতের সংখ্যা এক হাজারের বেশি, যার মধ্যে গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ৫৬০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
তিনি বলেন, এসব হত্যাকাণ্ড ২১টি দেশে ঘটেছে এবং এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি গভীর সংকটের প্রতিফলন।
তার ভাষায়, ত্রাণকর্মীরা খাদ্য, পানি, ওষুধ ও আশ্রয় সহায়তা দিতে গিয়ে নিহত হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রেই তারা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত যানবাহনে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে কাজ করছিলেন।
তিনি আরও বলেন, এই প্রবণতা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের ওপর সরাসরি আঘাতের সামিল।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, অক্টোবর ২০২৩ থেকে আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত শুধুমাত্র গাজায় ৫০০ জনের বেশি ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৩৪৬ জন জাতিসংঘের কর্মী এবং ৫১ জন ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের সদস্য ছিলেন।
এছাড়া গত তিন বছরে সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইউক্রেন এবং কঙ্গোতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘ প্রশ্ন তুলেছে, এসব হত্যাকাণ্ড কেন অব্যাহত রয়েছে এবং ত্রাণকর্মীদের কি এখন সংঘাতের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংস্থাটি সতর্ক করেছে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিশ্বব্যাপী মানবিক সহায়তা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
















