মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি সাধারণ মানুষের জন্য সাময়িক স্বস্তি এনে দিলেও এটি কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।
ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে বহু মানুষের প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর এই যুদ্ধবিরতি এসেছে। তবে লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকায় সেখানে এই স্বস্তি পৌঁছায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষই যুদ্ধ শেষ করতে আগ্রহী হলেও তাদের অবস্থান এখনো অনেক দূরে। পারস্পরিক অবিশ্বাসও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে আসন্ন আলোচনায় স্থায়ী সমাধান পাওয়া কঠিন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতকে বড় সামরিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে ইরানও নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী দাবি করছে। উভয় পক্ষের এই বিজয় দাবির মধ্যেই বাস্তবতা হলো, এখনো কোনো পক্ষই মূল অবস্থান থেকে পুরোপুরি সরে আসেনি।
ইরান চায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সম্পদ মুক্ত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করা।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথটি ইরানের জন্য একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে উঠে এসেছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে সম্ভাব্য আলোচনার দিকে নজর রয়েছে। তবে আগের আলোচনাগুলো ব্যাহত হওয়ায় নতুন করে সফলতা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাত ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে। চীনের ভূমিকা বাড়ছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোও তাদের কৌশল নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতি আপাতত স্বস্তি দিলেও পরিস্থিতি এখনো ভঙ্গুর। স্থায়ী শান্তির জন্য প্রয়োজন কার্যকর সমঝোতা, যা অর্জন করা সহজ হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
















