মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়ায় বিভিন্ন অঞ্চলের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা এবং জ্বালানি ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা ২০২৬ সালের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আগে থেকেই উৎপাদনশীলতা কম, বেসরকারি খাত দুর্বল এবং শ্রমবাজারের চ্যালেঞ্জ থাকা এসব অর্থনীতি নতুন করে ধাক্কা খাচ্ছে।
ইরান বাদে পুরো অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালে ৪ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে কমে ১ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে, যা আগের পূর্বাভাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস।
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলো ও ইরাকে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগবে। এসব দেশের প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের ৪ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬ সালে ১ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে।
বিশ্বব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম আরও বাড়তে পারে, বাণিজ্য, পর্যটন ও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কমে যেতে পারে এবং আর্থিক চাপ ও বাস্তুচ্যুতি বৃদ্ধি পেতে পারে।
ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধিও কমে ২০২৬ সালে ২ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে রাশিয়ার প্রবৃদ্ধি কমে ০ দশমিক ৮ শতাংশে নামার আশঙ্কা রয়েছে।
পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের ৫ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬ সালে ৪ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে। চীনের প্রবৃদ্ধিও একই সময়ে ৫ শতাংশ থেকে ৪ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংক বলছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে এবং পুনরুদ্ধারের পথ কঠিন হয়ে উঠবে।
















