বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে বড় ধরনের রপ্তানি সংকটে পড়েছে। জাহাজ ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় পণ্য পাঠানো ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে এবং ডেলিভারি সময়ও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
স্বল্প সময়ের মধ্যেই ইউরোপে একটি কনটেইনার পাঠানোর খরচ বেড়ে প্রায় ২৮০০ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগে ছিল ১৬০০ থেকে ১৮০০ ডলারের মধ্যে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতি কনটেইনারে খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৮০০ ডলার।
এর সঙ্গে অতিরিক্ত ৬০০ থেকে ১০০০ ডলার পর্যন্ত সারচার্জ আরোপ করা হয়েছে, যা সরাসরি রপ্তানিকারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং লাভ কমিয়ে দিচ্ছে।
সমুদ্রপথে জটিলতার কারণে জাহাজগুলো বিকল্প পথে চলাচল করছে, ফলে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রগামী চালানে গড়ে ৫ থেকে ১০ দিন বেশি সময় লাগছে। দ্রুত ডেলিভারির ওপর নির্ভরশীল ক্রেতাদের জন্য এটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
এই বিলম্ব এড়াতে কিছু রপ্তানিকারক আকাশপথে পণ্য পাঠানোর চেষ্টা করছেন। তবে এতে খরচ আরও বেড়ে গেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি পণ্য পরিবহনে খরচ প্রায় ৪.৩ ডলারে পৌঁছেছে, যা প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি।
দেশের ভেতরেও পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকায় কাঁচামাল আনার খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একইভাবে তৈরি পোশাক কারখানা থেকে বন্দরে নেওয়ার খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় দ্বিগুণ চাপ তৈরি হয়েছে, যা শিল্পের সামগ্রিক ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্প স্বল্প মুনাফার ওপর নির্ভরশীল। হঠাৎ ব্যয় বৃদ্ধির কারণে লাভের মার্জিন কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি অনিশ্চিত ডেলিভারি সময়ের কারণে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর প্রভাব ইতোমধ্যে রপ্তানি আয়ে দেখা গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মার্চ মাসে পোশাক রপ্তানি কমে ২.৭৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৯ শতাংশ কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট সাময়িক নয়। বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, সমুদ্রপথে বিঘ্ন এবং পরিবহন ব্যয়ের অস্থিরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে।
তাই বাংলাদেশের জন্য বন্দর ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যয় কমানো এবং কার্যকর লজিস্টিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি হয়ে উঠেছে, যাতে রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখা যায়।
















