ইউয়ানের ব্যবহার বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রভাব কমানোর চেষ্টা
জ্বালানি বাণিজ্যে বিকল্প মুদ্রা ব্যবহারে নতুন ভূরাজনৈতিক মাত্রা
ইরান ও চীন হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের বৈশ্বিক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ পথকে কেন্দ্র করে ইরান ও চীন ইউয়ান মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ দেখছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের প্রাধান্য দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দিয়েছে। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে এই প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ইরান নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে ইউয়ানে লেনদেনের ব্যবস্থা চালু করেছে বলে জানা গেছে। এতে চীনের সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ালে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কিছুটা এড়াতে পারবে এবং চীনও বৈশ্বিক বাণিজ্যে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারবে।
চীন ইতোমধ্যে ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতা হয়ে উঠেছে এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেনে ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ছে।
তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ডলারের আধিপত্য তাৎক্ষণিকভাবে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ ইউয়ান এখনও পুরোপুরি আন্তর্জাতিকভাবে বিনিময়যোগ্য নয় এবং চীনের আর্থিক ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি।
বর্তমানে বৈশ্বিক বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণে ডলারের অংশ এখনও সবচেয়ে বেশি, যেখানে ইউয়ানের অংশ তুলনামূলকভাবে খুবই কম।
তবুও ধীরে ধীরে বিকল্প মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানো হলে ভবিষ্যতে ডলারের প্রভাব কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি হঠাৎ কোনো পরিবর্তন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রক্রিয়া, যেখানে বৈশ্বিক অর্থনীতি ধীরে ধীরে বহুমুখী মুদ্রা ব্যবস্থার দিকে এগোতে পারে।
















