বাছাইভিত্তিক সুবিধা দিলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হতে পারে বলে সতর্কতা
স্থিতিশীল নীতি ও সমান সুযোগ নিশ্চিতের আহ্বান ইউরোপীয় ব্যবসায়ীদের
বাংলাদেশের বাণিজ্য পরিবেশে ন্যায্যতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন ইউরোপীয় বিনিয়োগকারীরা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ জানিয়েছে, বাছাই করে কিছু দেশকে বিশেষ সুবিধা দিলে বিদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য অসম প্রতিযোগিতার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্দিষ্ট অংশীদার দেশগুলোকে বাড়তি সুবিধা দিলে বাংলাদেশে কার্যরত ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সংগঠনের চেয়ারম্যান নুরিয়া লোপেজ বলেন, এ ধরনের নীতিমালা বাজারে ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। যদিও আলোচনায় নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা নীতির নাম উল্লেখ করা হয়নি।
ইউরোপীয় ব্যবসায়ীরা জোর দিয়ে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতি প্রয়োজন। কর ও বাণিজ্য নীতিতে হঠাৎ পরিবর্তন বা বাছাইভিত্তিক সুবিধা বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ এলেও ২০২৪ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় প্রায় ১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে। তবে ২০২৫ অর্থবছরে আবার তা কিছুটা বেড়ে প্রায় ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা বিনিয়োগ প্রবাহে ওঠানামার ইঙ্গিত দেয়।
বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের জন্য এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার, যেখানে মোট পোশাক রপ্তানির অর্ধেকের বেশি যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, সমান সুযোগ নিশ্চিত না হলে বিশেষ করে মূল্য সংযোজন ও টেকসই উৎপাদন খাতে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
ইউরোপীয় ব্যবসায়ী সংগঠনটি নীতিনির্ধারকদের প্রতি সব বিনিয়োগকারীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। এতে করে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির সময় বাংলাদেশ প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে পারবে বলে তারা মনে করে।
















