লিবিয়ায় পাচার করে নির্যাতনের মাধ্যমে কোটি ডলারের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ পুলিশের
হাজারো মানুষকে ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভনে ফাঁদে ফেলার অভিযোগ, বহু মৃত্যু ও নির্যাতনের তথ্য উঠে এসেছে
ইথিওপিয়ায় আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম ইয়েতবারেক দাউইত। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে তিনি একটি বড় পাচার চক্র পরিচালনা করে হাজারো মানুষকে লিবিয়ায় নিয়ে যেতেন, যেখান থেকে তাদের ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখানো হতো।
পুলিশ জানায়, উত্তরাঞ্চলীয় শিরে শহর থেকে তাকে আরও নয়জন সহযোগীসহ আটক করা হয়েছে। এখনো তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি।
তদন্তে উঠে এসেছে, লিবিয়ায় পাচার করা ব্যক্তিদের আটকে রাখার জন্য অন্তত পাঁচটি গোপন আটককেন্দ্র পরিচালনা করতেন তিনি। সেখানে আটক ব্যক্তিদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হতো, যাতে তাদের পরিবার থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যায়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রের কারণে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ৫০ জন নারী যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, এই চক্রটি জিবুতি, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, সোমালিয়া ও সুদান থেকে তিন হাজারের বেশি মানুষকে পাচার করেছে।
ইয়েতবারেক দাউইত বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত ছিলেন, যা ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে চলছিলেন।
তদন্তকারীরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। তার ও সহযোগীদের ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্যে জানা গেছে, যারা অর্থ দিতে ব্যর্থ হতেন, তাদের দিনে মাত্র একবার খাবার দেওয়া হতো এবং মারধর, বৈদ্যুতিক তার দিয়ে নির্যাতনসহ অমানবিক আচরণের শিকার হতে হতো। অনেক ক্ষেত্রে তাদের হাত-পা বেঁধে রাখা হতো এবং শরীরে গলিত প্লাস্টিক ঢালা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
নারীদের ক্ষেত্রে যৌন সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে, যার ফলে শারীরিক ও মানসিকভাবে গুরুতর ক্ষতির শিকার হয়েছেন তারা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই চক্র অবৈধভাবে প্রায় ১৯ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে।
গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তদের রাজধানী আদ্দিস আবাবায় নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
















