ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর ভূমিকা নিয়ে জটিল হিসাব-নিকাশ চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, তাদের সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে অভ্যন্তরীণ দুই ভিন্ন অবস্থানের ওপর—একটি সতর্ক থাকার পক্ষে, অন্যটি মিত্রদের পাশে দাঁড়ানোর পক্ষে।
যুদ্ধের প্রথম মাসে হুথিরা তুলনামূলকভাবে সতর্ক অবস্থান নেয়, যদিও তাদের ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দ্রুত সক্রিয় হওয়ার প্রত্যাশা ছিল। তবে এই সংযত ভূমিকার পেছনে রয়েছে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া শিক্ষা।
এর আগে গাজা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সামরিকভাবে জড়ানোর ফলে হুথিরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে। এতে সামরিক শক্তি, নেতৃত্ব, অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি সৌদি আরবের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি প্রক্রিয়াও জটিল হয়ে পড়ে।
এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে হুথিদের ভেতরে দুটি ধারা তৈরি হয়েছে।
একটি ধারা মনে করে, সরাসরি যুদ্ধে জড়ালে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি। তাই তারা সীমিত পর্যায়ে অবস্থান নেওয়া, রাজনৈতিক সমর্থন দেওয়া এবং বড় সংঘাতে জড়ানো এড়িয়ে চলার পক্ষে।
অন্যদিকে আরেকটি ধারা মনে করে, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই সময়ে সক্রিয় না হলে ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে। তারা ইরান-সমর্থিত জোটের অংশ হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার পক্ষে।
এই দুই অবস্থানের মধ্যে ভারসাম্য রেখে হুথিরা এখন সীমিত ও হিসাবকৃত পদক্ষেপ নিচ্ছে। তারা ধীরে ধীরে সম্পৃক্ত হচ্ছে, তবে এখনো বড় ধরনের সংঘাতে সরাসরি জড়ায়নি।
বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ বাব আল-মান্দেব প্রণালীকে কেন্দ্র করে তারা সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে, যাতে পরিস্থিতি আরও বড় আকার না নেয়।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এই ভারসাম্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তখন হুথিদের সামনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ আরও বাড়বে—তারা কি সতর্ক অবস্থান বজায় রাখবে, নাকি পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে।
সব মিলিয়ে, হুথিদের জন্য এটি শুধু সামরিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির প্রশ্নও। তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলের পরিস্থিতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
















