গাজার দক্ষিণাঞ্চলের আল-মাওয়াসি এলাকায় তীব্র পানি সংকটে মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে প্রতিদিন চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন বাস্তুচ্যুত হাজারো মানুষ।
খান ইউনিস অঞ্চলের এই শিবিরে বসবাসকারী একাধিক পরিবার জানায়, প্রতিদিন পানির জন্য কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না।
একজন বাসিন্দা জানান, সকালে সন্তানকে নিয়ে পানি আনতে বের হলে পুরো দিনই চলে যায়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর মাত্র অল্প পরিমাণ পানি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়, যা একটি পরিবারের জন্য যথেষ্ট নয়।
এর আগে নিয়মিত পানি সরবরাহকারী ট্রাকগুলো চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে দূষিত পানি ব্যবহার করছেন, যা শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে দিচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভও করেছেন। তারা দ্রুত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের পেছনে রয়েছে অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি, জ্বালানি সংকট এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রবেশে বাধা। যুদ্ধের কারণে বহু পানির উৎস ধ্বংস হয়ে গেছে, ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় মাথাপিছু পানির প্রাপ্যতা প্রায় সম্পূর্ণভাবে কমে গেছে। বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অল্প পরিমাণ পানি পাওয়া যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি এখন শুধু মানবিক সংকট নয়, বরং জীবন-মরণের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশুদ্ধ পানির অভাব গাজাবাসীর জন্য নীরব কিন্তু মারাত্মক হুমকিতে পরিণত হয়েছে।
সংকট দ্রুত সমাধান না হলে সামনে গ্রীষ্ম মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
















