ইরানে রেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির কেন্দ্রীয় কাশান শহরের ইয়াহিয়া আবাদ রেলসেতুতে হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইসরায়েল ইরানের রেলপথ ও ট্রেনকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দেয়। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ট্রেনে ভ্রমণ না করার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়।
এর পরপরই নিরাপত্তার কারণে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শহর মাশহাদ থেকে ট্রেন চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা না হলে দেশটির সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা হলে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
এ পরিস্থিতিতে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানার পাশাপাশি পাশের একটি উপাসনালয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
অন্যদিকে কুম প্রদেশের একটি সড়ক সেতুতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
চলমান সংঘাতে ইতোমধ্যে ইরানে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
এদিকে উত্তেজনার প্রভাব পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলেও পড়েছে। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরব ও বাহরাইনকে সংযুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়, পরে তা আবার চালু করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে এবং এতে সাধারণ মানুষের ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও বৈশ্বিক জ্বালানি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
















