যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের সাবেক সামরিক কর্মকর্তা কাসেম সোলেইমানির ভাতিজি হামিদেহ সোলেইমানি আফশার ও তার মেয়ের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, ওই দুই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছেন। তাদের দেশত্যাগের প্রক্রিয়া চলছে।
বিবৃতিতে আফশারকে ইরানের শাসনব্যবস্থার প্রকাশ্য সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানকে সহ্য করা হবে না।
রুবিও সামাজিক মাধ্যমে জানান, তিনি নিজেই তাদের আইনগত অবস্থান বাতিল করেছেন। তার দাবি, আফশার যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন এবং ইরানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। সোলেইমানির মেয়ে জয়নাব সোলেইমানি বলেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে তার বাবার কোনো সম্পর্ক নেই এবং যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ভিত্তিহীন।
এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ঘটল। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতি হয়েছে।
এ মাসে এটি দ্বিতীয় ঘটনা, যেখানে ইরানের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আত্মীয়দের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নিয়েছে। এর আগে আরেকজন ইরানি নেতার মেয়ের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে এই ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং পারিবারিক সম্পর্কের কারণে শাস্তি দেওয়ার প্রশ্নে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এদিকে কিছু রাজনৈতিক মহল ও কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে ইরানি কর্মকর্তাদের আত্মীয়দের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে আসছিল। অনলাইনে করা একটি আবেদনে হাজারো মানুষ এই দাবির পক্ষে সমর্থনও দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও মানবাধিকার ইস্যুতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
















