ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় চিকিৎসা খাত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন হাসপাতাল, ওষুধ উৎপাদন প্রতিষ্ঠান এবং গবেষণা কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, এসব হামলার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, হাসপাতাল ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে হামলার মাধ্যমে কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
রাজধানী তেহরানে অবস্থিত পাস্তুর ইনস্টিটিউট, যা সংক্রামক রোগ গবেষণা ও টিকা উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, সেটিও হামলার শিকার হয়েছে বলে জানানো হয়। শত বছরের বেশি পুরোনো এই প্রতিষ্ঠান দেশটির টিকাদান কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, মার্চের শুরু থেকে ইরানে স্বাস্থ্যসেবায় অন্তত ২০টির বেশি হামলার ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে স্বাস্থ্যকর্মীসহ কয়েকজন নিহত হয়েছেন এবং বহু চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হয়েছে।
হামলার মধ্যে একটি রেড ক্রিসেন্ট গুদাম, বড় ওষুধ কোম্পানি এবং একাধিক হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে রোগীদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ, ফলে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী হাসপাতাল, চিকিৎসাকর্মী এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর হামলা নিষিদ্ধ। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবেও এই ধরনের হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে এবং এসব স্থাপনা সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সংঘাতে এই নিয়মগুলো উপেক্ষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু ইরান নয়, লেবানন ও গাজাতেও চিকিৎসা খাতে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে বহু মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই ধরনের হামলা শুধু তাৎক্ষণিক প্রাণহানি ঘটায় না, বরং দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলে এবং সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়।
বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, যুদ্ধের সময় চিকিৎসা খাতকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে তা মানবিক বিপর্যয়কে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের ভিত্তিকে দুর্বল করে তোলে।
















