মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং বিশ্বব্যাংক।
বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে সংস্থাগুলো জানায়, যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় ধাক্কা।
তারা জানায়, বর্তমান অনিশ্চয়তার পরিস্থিতিতে উন্নয়ন, বিশ্লেষণ এবং নীতিনির্ধারণে সমন্বয় বাড়াতে একটি যৌথ সমন্বয় গ্রুপ গঠন করা হবে।
এই গ্রুপ বিভিন্ন দেশের ওপর যুদ্ধের প্রভাব মূল্যায়ন করবে, সমন্বিত প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করবে।
সহায়তার অংশ হিসেবে নীতিগত পরামর্শ, অর্থায়নের প্রয়োজন নির্ধারণ এবং স্বল্প বা শূন্য সুদে ঋণ দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনা করা হতে পারে। পাশাপাশি ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন দ্বিতীয় মাসে গড়িয়েছে এবং এর প্রভাব পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।
সংস্থাগুলো জানায়, এই যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে এবং এর প্রভাব সব দেশে সমান নয়। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর ও স্বল্প আয়ের দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তারা আরও জানায়, যুদ্ধের কারণে তেল, গ্যাস ও সারসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া পর্যটন খাতও ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে, যার ফলে অনেক দেশের মুদ্রার মান কমছে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো একসঙ্গে কাজ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
















