মিয়ানমারে সামরিক সরকারের আকাশ হামলা অব্যাহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বিদেশ থেকে আমদানি করা জ্বালানি। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জটিল ও গোপন সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই জ্বালানি পৌঁছে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন তদন্তে উঠে এসেছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই সরবরাহ চক্রে ব্যবহৃত হচ্ছে পরিচয় গোপন রাখা জাহাজ, মাঝপথে পণ্য স্থানান্তর এবং একাধিক মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে পুনরায় বিক্রির মতো কৌশল। এসব পদ্ধতি জ্বালানির উৎস আড়াল করতে সহায়তা করছে।
২০২২ সাল থেকে মিয়ানমারে আকাশ হামলা বেড়েছে এবং এতে গ্রাম, স্কুল, ধর্মীয় স্থাপনা ও বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবির লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। স্থলযুদ্ধে দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সামরিক সরকার আকাশ শক্তির ওপর বেশি নির্ভর করছে।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলেও তা পুরোপুরি জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করতে পারেনি। বরং এসব চাপের কারণে সরবরাহ প্রক্রিয়া আরও গোপন ও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই জ্বালানি সরবরাহে ব্যবহৃত কৌশলগুলো ইরান ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোর ব্যবহৃত পদ্ধতির সঙ্গে মিল রয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর কৌশল এখন এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।
একটি তদন্তে ইরান থেকে মিয়ানমারে জ্বালানি পাঠানোর প্রমাণও পাওয়া গেছে, যেখানে জাহাজের অবস্থান গোপন করার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সরবরাহ চক্র একটি বড় বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের অংশ, যেখানে বিভিন্ন দেশ ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান জড়িয়ে আছে। ফলে শুধু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেই কার্যকর ফল পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু সরকার নয়, বরং পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে। জাহাজ চলাচল, বীমা, আর্থিক লেনদেনসহ সব পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তাদের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থায় ছোটখাটো বাধাও সৃষ্টি করা গেলে মিয়ানমারের আকাশ হামলার সক্ষমতা কমে আসতে পারে।
এই পরিস্থিতি শুধু মিয়ানমারের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিকভাবে একটি সতর্কবার্তা। কারণ আধুনিক সংঘাতে শুধু অস্ত্র নয়, বরং সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণই যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
















